তমিজ উদ্দিন তার তিন ছেলেকে সাথে নিয়ে তার জমিতে ধান, গম, সরিষা, ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করে। তার স্ত্রী ও পুত্রবধূরাও ফসল তোলার কাজে সহায়তা করে। অবসর সময়ে সে বাড়ির সামনে 4 একটি মুদি দোকান চালায়। কিন্তু এসব কাজের জন্য কেউ তাকে কোনো বেতন দেয় না। তাতে সে মনে কষ্ট না পেয়ে বরং গর্ববোধ করে।
SAFTA-এর পুরো নাম 'South Asian Free Trade Area' বা দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা।
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। তবে শহরাঞ্চলের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যের ভূমিকাও আমাদের অর্থনীতিতে ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো খাতের গুরুত্ব অন্য খাত থেকে কম নয়। দেশকে উন্নত করতে হলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সবল ও গতিশীল করে তুলতে হবে। তার জন্য কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সকলক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি করতে হবে। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে এর কোনো বিকল্প নেই।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১। অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলির বিবরণ দিতে পারব;
২। বাংলাদেশের গ্রামের অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজের ব্যাখ্যা করতে পারব;
৩। শহরের অনানুষ্ঠানিক কাজের চিত্র তুলে ধরতে পারব;
৪। জাতীয় অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক কাজের অবদান ব্যাখ্যা করতে পারব:
৫। বাংলাদেশের শিল্পের প্রকারভেদ সম্পর্কে বিবরণ দিতে পারব;
৬। অর্থনীতির বিকাশে শিল্পের অবদান নির্ণয় করতে পারব;
৭। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা বর্ণনা করতে পারব;
৮। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের বিবরণ দিতে পারব;
৯। আমদানি ও রপ্তানির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব;
১০। প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ব্যাখ্যা করতে পারব;
১১। বাংলাদেশের কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বর্ণনা দিতে পারব;
১২। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সমস্যা ও করণীয় ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allমাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্পকে বোঝায়, যেখানে দেড় কোটি টাকার অধিক মূলধন খাটানো হয়।
মাঝারি শিল্পের উদাহরণ হলো হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, সিল্ক, সিরামিক, কোন্ড স্টোরেজ বা হিমাগার ইত্যাদি। দেশের চাহিদা পূরণ ও অনেক লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ ধরনের শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলির আওতাভুক্ত।
সাধারণত যেসব অর্থনৈতিক কাজের জন্য মজুরি নির্ধারিত নেই, করের আওতায় আনা কঠিন এবং যা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ বলে। যেমন- নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি, দিনমজুরি ইত্যাদি। আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা এসব কাজকে অর্থনীতির প্রথাগত খাতও বলে থাকেন।
উদ্দীপকের তমিজ উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। আবার অবসর সময়ে তিনি একটি মুদির দোকান চালান। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, তমিজ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজের আওতাভুক্ত। কারণ তাদের এ কাজের জন্য কোনো নির্ধারিত মজুরি নেই, তা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিতও নয়।
তমিজ উদ্দিনের মতো মানুষের কাজ তথা অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে- বক্তব্যটি যথার্থ।
বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অনানুষ্ঠানিক খাত অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের একজন কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেন। তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। f এমনিভাবে কামার-কুমোরের কাজসহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প, মুদির দোকান ও অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী স্বল্প ও মাঝারি আয়ের অনেক মানুষও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পরও আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিতে প্রথাগত বা অনানুষ্ঠানিক কার্যাবলি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলতে এমন অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়, যা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক যাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় না।
আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা একে 'প্রথাগত খাত' হিসেবেও অভিহিত করেন। এ ধরনের কাজের উদাহরণ হচ্ছে-নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের তামজিদের স্থাপিত কারখানাটি ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
দেড় কোটি টাকার কম মূলধন খাটে যে কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্পে বেতনভুক্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে উৎপাদন কার্য পরিচালিত হয়। এ ধরনের শিল্পের উদাহরণ হচ্ছে- চাল কল, ছোট ছোট জুতা বা প্লাস্টিক কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ইত্যাদি।
উদ্দীপকের তামজিদ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। সে সেখানে কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত এবং প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করে। তাই তামজিদের স্থাপিত কারখানাকে ক্ষুদ্রশিল্পের সাথে তুলনা করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!